Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়  সরকারের জনগুরুত্বপূর্ন  একটি বিভাগ।  খাদ্য অধিদপ্তর, ঢাকার আওতাধীন এ কার্যালয়টি মাঠ পর্যায়ে সরকারের নীতি  বাস্তবায়নে কাজ করে থাকে।  মহাকুমা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়টি ১৯৮৪ সালে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের  কার্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে।  এটি কুখাপাড়া রোডে উপজেলা পরিষদের বিপরীতে অবস্থিত।  জেলা কার্য্লয়ের প্রধান হলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।  জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অধীন ০১ জন, কারিগরি খাদ্য পরিদর্শকসহ কিছু  সংখ্যক কর্মচারী রয়েছেন। এ কার্যালয়ের অধীনে ০৬টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের  কার্যালয় ও ০৭টি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয় রয়েছে।  অত্র জেলায় অবস্থিত ০৭ টি এলএসডি হলো- নীলফামারী সদর এলএসডি, সৈয়দপুর এলএসডি, ডোমার এলএসডি, চিলাহাটি এলএসডি, জলঢাকা এলএসডি, ডিমলা এলএসডি ও কিশোরগঞ্জ এলএসডি। এলএসডিগুলোতে সরকারের খাদ্যশস্য (ধান,গম ও চাল) সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিলি-বিতরণ করা হয়।  জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নিয়্ত্রনাধীন অফিস আঞ্চলিক খাদ্য নিয়্ত্রকের কার্যালয়,যা রংপুর  সেন্ট্রাল   রোডে অবস্থিত।

 

  জেলার  ভৌগলিক পরিচিতি: রাজধানী ঢাকা থেকেউত্তরপশ্চিমদিকে প্রায় ৪০০ কিঃমিঃ দুরে প ১৮২১-বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এ জেলার অবস্থান যা কর্কটক্রান্তি রেখার সামান্য উত্তরে অবস্থিত। এ জেলার ভৌগলিক অবস্থান ২৫৪৪/ হতে ২৬১৯/  উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং ৮৮৪৬/ হতে ৮৯১২/  পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত। এ জেলার পূর্বে রংপুর ও লালমনির হাট, দক্ষিনে রংপুর ও দিনাজপুর,পশ্চিমে দিনাজপুর ও পঞ্চগড় এবংউত্তরে ভারতের শিলিগুড়ি জেলা ।

 

জেলার পটভূমি : দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষেরখামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ওনীল খামার গড়ে ওঠে। ঊণবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, টেঙ্গনমারী প্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্যউৎপাদিত হতো এখানকার উর্বর মাটির গুণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এতদ অঞ্চলে। গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিনকিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতন বাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি। ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীলখামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।নীলফামারী একটি প্রাচীন জনপদ। ঐতিহাসিক বিভিন্ন নিদর্শন ও প্রাচীনগ্রন্থাদি থেকে এ অঞ্চলে আদিম জনবসতির অস্তিত্বের কথা জানা যায়।খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকে খননকৃত বিরাট রাজার দীঘি অপভ্রংশে বিন্নাদীঘি নীলফামারীর প্রাচীন ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এছাড়াও বিলুপ্তপ্রায়ধর্মপালের গড়, হরিশচন্দ্রের পাঠ, ভীমের মায়ের চুলা, ময়নামতির দূর্গ এ জেলারঐতিহাসিক নিদর্শন। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নীলফামারী জেলা হিমালয় পর্বত বাহিত পলল দিয়ে গঠিত। করতোয়া, আত্রাই ও তিস্তা নদের পলিমাটি এ অঞ্চলের মৃত্তিকা গঠন ও ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি করেছে। নীলফামারীর এ ভূ-পৃষ্ঠকে পাদদেশীয় পাললিক সমভূমি বলা হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিবর্তনে নীলফামারীর নদীপথ বারংবার গতিপথ পরিবর্তন করে ক্রমশঃ উর্বর সমভূমি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বহু ঘটনার প্রান কেন্দ্র নীলফামারী। বিভিন্ন প্রত্ন, প্রস্ত থেকে নীলফামারী জেলার মৃত্তিকাগর্ভে অাদিম জনবসতির অস্তিত্ব অনুমান করা যায়। উর্বর ভূগর্ভের ফলে অত্র অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানের লোকের আগমন ঘটে। কালের পরিক্রমায় যুদ্ধবিগ্রহের মধ্য দিয়ে তারা স্থায়ীভাবে এখানে বসবাস স্থাপন করেন। কৃষক বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১এর মুক্তিযুদ্ধ নীলফামারীর ইতিহাসে অন্যতম অধ্যায়। প্রত্যেকটি বিদ্রোহ-সংগ্রামে নীলফামারীর লোকজন ছিল প্রতিবাদমুখর। প্রায় বিশ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত নীলফামারী জেলা একটি অবহেলিত, দারিদ্রপিড়ীত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসাবে পরিচিত। অসম ভূমি মালিকানা, ভূমিহীনদের সংখ্যাধিক্য, কৃষি নির্ভরতা, শিল্পায়নের অভাব এবং বেকারত্ব এঅঞ্চলের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মূল কারণ। আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত অনেক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও জমির উর্বরতা, তিস্তা ব্যারেজের মাধ্যমে নদীর পানি নিয়ন্ত্রন করে কৃষি কাজে ব্যবহার, জনশক্তির প্রাচুর্য প্রভৃতি কারণে এ অঞ্চল এখনও দেশের অন্যতম খাদ্য উদ্বৃত্ত অঞ্চল হিসাবে পরিগনিত। শিক্ষারগুণগতমান নিশ্চিত করে জনশক্তির সঠিক ব্যবহার ও শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমে এঅঞ্চলকে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব। ধীরে ধীরে অবহেলিত জনপদ  উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ছবি